নওগাঁর রাণীনগরে ধর্ষন চেষ্টার বিষয়টি অর্থের মাধ্যমে রফাদফা ॥ ঘর ছাড়া ভুক্তভোগী গৃহবধূ

নওগাঁর রাণীনগরে ধর্ষন চেষ্টার বিষয়টি অর্থের মাধ্যমে রফাদফা ॥ ঘর ছাড়া ভুক্তভোগী গৃহবধূ


রানীনগর প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর রাণীনগরের ঝালঘড়িয়া গ্রামের এক গৃহবধূকে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ধর্ষন চেষ্টার বিষয়টি অর্থের মাধ্যমে রফাদফা করে গৃহবধূকে ঘর ছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ একই উপজেলার গহেলাপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর বড় ছেলে জানায় ঘটনার দিন গত ২০মে (বৃহস্পতিবার) রাতে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে বনভোজনের আয়োজন করে। সেই আয়োজনের খবর নিতে সে তার ছোট ভাইকে ডুবাগাড়ি বাজারে তাদের চায়ের দোকানে রেখে খবর নিয়ে বাড়িতে যায়। বাড়িতে গিয়ে দেখে একই গ্রামের মৃত-আমিনুল হক চুনির ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজা তাদের বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। এরপর বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে দেখে একই গ্রামের মৃত-বশির আলী আকন্দের ছেলে নজরুল ইসলাম নজু (সম্পর্কে বড় চাচা) তার মাকে জড়িয়ে ধরে ধ্বস্তাধস্তি করছিলো। তারা আমাকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর আমার মা কান্না করতে করতে পাশের বাড়িতে চলে যায়। ঘটনার বেশ কয়েকদিন আগে আমার বাবা দিনমজুরের কাজের জন্য বাহিরে থাকায় চায়ের দোকান তাদেরকে দেখাশোনা করতে হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের অনেকেই বলেন নজরুল ও রেজার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বহিরাগত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গোপনে শুক্রবার রাতে এই বিষয়টি মিটমাট করেছেন। কিন্তু যে পরিমাণ টাকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা ছিলো তার কিছু অংশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে শনিবার তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদিকে এই বিষয়টি গ্রামের গন্যমান্য ও সুধীজনদের না জানিয়ে বাহিরের মানুষরা এসে অর্থের বিনিময়ে মিটমাট করার বিষয় নিয়ে চরম ােভের সৃষ্টি হয়েছে গ্রামের সচেতন মহলে। 

ভুক্তভোগীর স্বামী মুঠোফোনে বলেন আমার স্ত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছিলো। এরপর বিষয়টি শুক্রবার রাতে (২১মে) আমরা স্থানীয় ভাবে মিটমাট করে নিয়েছি। থানায় যে অভিযোগ করেছিলাম তা তুলে নিয়েছি। আমার স্ত্রী বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে।

অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম রেজা মুঠোফোনে বলেন এটি সম্পন্ন মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ল্েয কতিপয় ব্যক্তিরা এই বিষয়গুলো রটিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে আরেক অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম নজু পলাতক ও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

গ্রামের সুধীজন জাহিদুল হক সিন্টু বলেন প্রায় এক মাস আগে এই দুই ব্যক্তিই গ্রামের আরেক গৃহবধূকে রাতের আঁধারে ধর্ষনের চেষ্টা করেছিলো। সেই বিষয়টিও কতিপয় ব্যক্তিরা প্রায় ৭৫হাজার টাকার বিনিময়ে মিটমাট করেছে। তারপর ভুক্তভোগী গৃহবধূকে নিয়ে একই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক একটি বিষয়। আমরা এই বিষয়গুলো স্থানীয় সাংসদ মহোদয়কে জানিয়েছি। তার নির্দেশনা মোতাবেক গ্রামে কোন কিছু হলে আমরা গ্রামবাসীরা বসে তা সমাধান করবো। কিন্তু বাহিরের মানুষরা এসে সমাধানের নামে মোটা অংকের অর্থ হরিলুট করে নিয়ে যাবে তা আর আমরা মানবো না। আমরা গ্রামবাসীরা দ্রুত বসে এই বিষয়ে একটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। 

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন আকন্দ বলেন এই বিষয়ে শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী এসে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করলে আমি সরেজমিনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। এরপর আর কেউ থানায় এসে লিখিত ভাবে অভিযোগ না করায় বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি।