নওগাঁয় লকডাউনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিঃ সকল প্রকার যানবাহন দোকান পাট বন্ধ

নওগাঁয় লকডাউনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিঃ সকল প্রকার যানবাহন দোকান পাট বন্ধ


মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে নওগাঁ পৌরসভা এলাকা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বৃহষ্পতিবার সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন পালিত হলো। নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলার  বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মোড় সমুহে  চলছে পুলিশি তৎপরতা। শহরে কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন ছোট ছোট রাস্তায় পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও জেলার আভ্যন্তরীন বাস ও দুরপাল্লার কোন বাস নওগাঁ থেকে ছেড়ে যায় নি বা প্রবেশ করেনি।
পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া জানান, এই কঠোর লকডাইনে নওগাঁ পৌরসভায় ২৩টি ও নিয়ামতপুর উপজেলার ১৮টি স্থানে পুলিশের চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। ছোট ছোট যানবাহনে এবং পায়ে হেটে যারা জরুরী কাজে বাসা থেকে বের হলেও তাদেরকে তল্লাশী করে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পৌর বাজার এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের উপস্থিতি খুবই কম চোখে পড়ে। শহরের মুক্তির মোড়, বালুডাঙ্গা বাস স্টান্ড মোড়, তাজের মোড় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশী তল্লাশী দেখা গেছে। চোখে পড়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। অপ্রয়োজনে মোটর সাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরার সময় অনেকের জরিমানাও করা হয়েছে।   
শহরের প্রধান বাজার এলাকাসহ পুরো শহরে জরুরি পণ্য ছাড়া প্রায় সব দোকানই বন্ধ থাকতে দেখা যায়। এসব এলাকার রাস্তাঘাট গুলো অন্য দিনগুলোতে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত মানুষের সমাগম থাকত আজ সকাল থেকে এসব এলাকা ছিল জনশূন্য। 
সকাল ১০টার দিকে শহরের পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় বাজারে মানুষের উপস্থিতি খুব কম ছিল। সেখানে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগে বাজার ক্রেতাদের ভিড় ছিল। কিন্তু আজ বাজারে মানুষের উপস্থিতি খুব কম। 
জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন অর রশীদ জানান, এই কঠোর লকডাউনে নওগাঁ পৌরসভায় ৬টি ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ২টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে। আবার যারা জরুরী কাজে ঘর থেকে বের হয়েছেন তাদেরকে বুঝিয়ে ঘরে ফেরত পাঠাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরার উপর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি। 
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নওগাঁ জেলায় ১৫৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৫ জন করে, ধামইরহাট উপজেলায় ৪ জন, পতœীতলা উপজেলায় ৩ জন, সদর ও সাপাহার উপজেলায় ২ জন করে এবং মান্দা ও পোরশা উপজেলায় ১ জন করে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ৩৩৯ জনে দাঁড়ালো। এ সময় সুস্থ্য হয়েছেন ১৭ জন এবং এ পর্যন্ত  নর্বমোট সুস্থ্য হয়েছেন ২ হাজার ৩৫ জন। মৃত্যু বরন করেছেন ৪৩ জন। বর্তমানে জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন ৩০৪ ব্যক্তি। বর্তমানে জেলায় আইসোলেশনে রয়েছেণ ১৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১ জন।#