মহাদেবপুরে পাহাড়পুর স্কুলের ভবন ভাঙ্গা ও গাছ কাটায় অনিয়ম

মহাদেবপুরে পাহাড়পুর স্কুলের ভবন ভাঙ্গা ও গাছ কাটায় অনিয়ম

মহাদেবপুর প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর জিতেন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভাঙ্গা ও গাছ কাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কাজে প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা না করে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছেমত ভবন ভেঙ্গে ও গাছ কেটে সেসব মালামাল নিজেদের মধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। এজন্য বিধি অনুযায়ী উর্ধতন কর্তৃপক্ষের না কোন অনুমতি নেয়া হয়েছে, না কোন টেন্ডার দেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন, স্কুলের স্বার্থে বেশী দাম পাওয়ার জন্য তারা টেন্ডার না দিয়ে মালামাল বিক্রি করেছেন। আর কর্মকর্তারা বলছেন, তাদেরকে কিছু না জানিয়েই স্কুল কর্র্র্র্র্র্তৃপক্ষ এসব করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই স্কুলের পুরাতন ভবনের একতলা টিনশেড বিল্ডিংয়ের পাঁচটি ঘর স্কুল কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গে ফেলে ইট, টিন, লোহার জানালা, শিটের দরজা প্রভৃতি নিজেদের মধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১৫টি মেহগনি, কাঠাল, জলপাই, আম, ইউকালিপটাস প্রভৃতি জাতের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে স্কুল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবন ভেঙ্গে ফেলা সামান্য কিছু ইট এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ভবনের ওয়ালের ইট তুলে ফেলায় মাটিতে গর্ত দেখা যায়। এছাড়া ভেঙ্গে ফেলা ভবনের সামনে ও স্কুলগেটের আশেপাশে কয়েকটি কাটা গাছের গোড়া এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। কয়েকটি গাছ কেটে নেয়ার পর মাটিতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। 
আশেপাশের এলাকা ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই স্কুলের শিক্ষিকা শিখা রাণী ভাঙ্গা ভবনের পুরাতন ইট কিনে নিয়ে তার পিতা সত্য ঘোষের একটি দোকান ঘর নির্মাণে ব্যবহার করেছেন। অপর শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলাশ ওই ইট কিনে নিয়ে তার শ^শুড় হুমায়ুন কবিরের বাড়ি সংলগ্ন পুকুরের পাড়ে ওয়াল দিয়েছেন। শিক্ষক সোহেল রানাও ওই ইট কিনে বাড়ির কাজে লাগিয়েছেন।
এলাকায় রাজমিস্ত্রি হিসেবে ব্যাপক পরিচিত সফাপুর গ্রামের নরেন্দ্রনাথের ছেলে বিপ্লব কুমার জানান, তিনি ওই স্কুলের পুরাতন ভবনের একতলা টিনশেডের পাঁচটি পাকা ঘর ভেঙ্গেছেন। তাতে কমপক্ষে ২০ হাজার ইট, পাঁচটি গ্রিলের জানালা, সাতটি শিটের দরজা ও বেশ কয়েক বান্ডিল টিন পাওয়া গেছে। ইটগুলো প্রতি হাজার গড়ে চার হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
এলাকার গাছ ব্যবসায়ী সফাপুর গ্রামের মৃত কোকেন উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি পলাশ মাষ্টারের মাধ্যমে ওই স্কুলের প্রায় ১৫টি গাছ ১০ হাজার পাঁচশ টাকায় কিনেছেন।
জানতে চাইলে শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলাশ জানান, ভবন ভেঙ্গে পাওয়া মালামাল ও গাছ বিক্রির জন্য একটি কমিটি করা হয়। তিনি সে কমিটির সদস্য হিসেবে সেগুলো বিক্রি করেছেন। সেগুলো বিক্রির জন্য কোন টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। নিলাম ডাকে অংশ নেয়ার জন্য এলাকায় কোন মাইকিংও করা হয়নি। নিজেদের মধ্যেই সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পাহাড়পুর জিতেন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মায়া রাণী জানান, ভবন ভাঙ্গা ও গাছ কাটা কোনটার বিষয়েই সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কোন লিখিত অনুমতি নেয়া হয়নি। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে মৌখিক আলাপ করে নিলাম কমিটি গঠন করে সেগুলো বিক্রি করা হয়। মালামালগুলো কত টাকায় বিক্রি হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি। টাকাগুলো ব্যাংকে জমাও দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, কিছু টাকা এখনো বাঁকি রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিয়াউল হক কালাম জানান, তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে যোগাযোগ করে বিস্তর টাকা খরচ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তার বিদ্যালয়ের একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে এনেছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ও গাছগুলো কাটা হয়েছে। সেগুলো থেকে লক্ষাধিক টাকার মালামাল বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, নিলাম ডাকে তুললে দলীয় কর্মিরা নিজেদের মধ্যে নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে খুব কম টাকায় ডেকে নেয়। তাই প্রতিষ্ঠান যাতে বেশি টাকা পায় এজন্য রেজুলেশন করে নিলাম কমিটি গঠন করে মালামালগুলো বিক্রি করা হয়েছে। 
উপজেলা বন কর্মকর্তা আহসান হাবীব জানান, কোন প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করতে হলে তা লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে জানাতে হয়। কমিটির সভাপতি তদন্ত করে বিক্রয়যোগ্য গাছের তালিকা তৈরি করে সেগুলোর সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণের জন্য উপজেলা বন কর্মকর্তাকে জানান। বন কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করে জানানোর পর প্রকাশ্য নিলামের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু পাহাড়পুর জিতেন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার ক্ষেত্রে এসব কোন নিয়মই মানা হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, নিয়মানুযায়ী নিলামের ব্যবস্থা না করে কোনক্রমেই তারা ভবন ভাঙ্গতে বা গাছ কাটতে পারেন না। তারা যদি এটা করে থাকেন তবে অবশ্যই তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই স্কুলের পুরাতন ভবন ভাঙ্গার জন্য বা গাছ কাটার জন্য কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। বিষয়টি তিনি কিছুই জানেন না বলেও জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান মিলনও একই কথা জানান। তিনি জানান, বিষয়টি দেখার জন্য তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিবেন।#